স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৯ লাখ স্নায়ুকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যু কিংবা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ঝুঁকি বাড়ে। স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর দ্রুত রোগীকে উপযুক্ত হাসপাতালে নেওয়া গেলে অনেক ক্ষেত্রে জীবন বাঁচানো এবং দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতা কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে কালবিলম্ব না করে হাসপাতালে নিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ট্রোকের লক্ষণ চেনা, দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্তের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
স্ট্রোকের রোগীকে সাধারণত উপসর্গ শুরুর সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে রক্তের জমাট গলানোর ওষুধ দেওয়া যায়। আবার নির্দিষ্ট কিছু রোগীর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের বন্ধ রক্তনালি খুলতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে রক্তের জমাট অপসারণের সুযোগ থাকে। কিন্তু সচেতনতার অভাব, হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার সীমিত সুযোগে অনেক রোগীই এসব চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। এবারের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘প্রতিটি মিনিট মূল্যবান’।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও অপেক্ষা করা উচিত নয়। মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত-পা দুর্বল হয়ে পড়া কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। লক্ষণ কয়েক মিনিটের মধ্যে ভালো হয়ে গেলেও অবহেলা করা যাবে না। এটি ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ) হতে পারে, যা পরবর্তী স্ট্রোকের সতর্কসংকেত।
তরুণরাও ঝুঁকিতে একসময় স্ট্রোককে প্রবীণদের রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে এখন তরুণ ও কর্মক্ষম বয়সের মানুষের মধ্যেও এ রোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য, ধূমপান, স্থূলতা, অনিয়মিত জীবনযাপন ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, বিশেষ করে অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনও স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।
‘গোল্ডেন আওয়ার’ কেন গুরুত্বপূর্ণ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে আক্রান্ত অংশে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়। এতে মস্তিষ্কের কোষ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। বড় রক্তনালি বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৯ লাখ স্নায়ুকোষ নষ্ট হতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। যত দেরিতে চিকিৎসা শুরু হয়, মস্তিষ্কের ক্ষতি ও স্থায়ী অক্ষমতার ঝুঁকি তত বাড়ে। ইস্কেমিক স্ট্রোকের উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে উপসর্গ শুরুর সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে শিরাপথে থ্রম্বোলাইসিসের মাধ্যমে রক্তের জমাট গলানোর চিকিৎসা দেওয়া যায়। মস্তিষ্কের বড় রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে মেকানিক্যাল থ্রম্বেকটমি নামে একটি উন্নত চিকিৎসাপদ্ধতি রয়েছে। এতে ক্যাথেটারের মাধ্যমে বন্ধ রক্তনালিতে পৌঁছে বিশেষ যন্ত্র দিয়ে জমাট রক্ত অপসারণের চেষ্টা করা হয়। উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে এ চিকিৎসা উপসর্গ শুরুর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
